Skip to main content

মসুর ডালের স্বাস্থ্য উপকারিতা

মসুর ডাল সারা পৃথিবী জুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। ডাল হচ্ছে শিম গোত্রের খাদ্যশস্য। এগুলো মূলত শুঁটিজাতীয় মৌসুমি ফলের শুকনো বীজ। ডাল মূলত রবি শস্য কিন্তু সারা বছরই সব ধরনের ডাল পাওয়া যায়। অন্যান্য ডালের তুলনায় মসুর ডালটাই বেশি জনপ্রিয়। সাধারণভাবে মসুর ডাল রান্না করে খাওয়ার পাশাপাশি এটা দিয়ে তৈরি করা হয় নানা রকমের পুষ্টিকর ও মুখরোচক খাবার। যেমন – ডালের চচ্চড়ি, ডালনা, নিরামিষ, পিঁয়াজু, ডালপুরি, ডালের স্যুপ, আম ডাল, পুঁই ডাল ইত্যাদি। মসুর ডাল প্রোটিনের আধার বলে একে মাংসের বিকল্প হিসেবেও ধরা হয়। আর তাই নিরামিষ ভোজীদের কাছে এটি অত্যন্ত পছন্দের একটি খাবার।

মসুর ডালের পুষ্টিগুণ

মসুর ডাল শুধু সুস্বাদুই নয় এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ। যেমন, খনিজ পদার্থ, আঁশ, খাদ্যশক্তি, আমিষ, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ক্যারোটিন, ভিটামিন বি-২ ও শর্করা ইত্যাদি।   মসুর ডাল সহজপাচ্য এবং এতে প্রোটিনের পরিমাণ সর্বাধিক। প্রতি ১00 গ্রাম মসুর ডালের পুষ্টিগুণ এমন -জলীয় অংশ ১২.৪ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ২.১ গ্রাম, আঁশ ০.৭ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৩৪৩ কিলোক্যালরি আমিষ ২৫.১ গ্রাম, চর্বি ০.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, লৌহ ৪.৮ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ২৭০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি-২ ০.৪৯ মিলিগ্রাম, শর্করা ৫৯.০ গ্রাম

 

সৌন্দর্য্য চর্চায় মসুর ডালের হরেক গুন জেনে নেওয়া যাক

ত্বক সতেজ করতে

মসুরির ডাল পিষে তার মধ্যে মধু এবং দই মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বক সতেজ হবে।

মুখের কালচে ভাব দূর করতে

মসুর ডালকে রাতে দুধের মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। সকাল বেলায় ডালটা পিষে মুখে লাগান। রোজ যদি মুখে এই প্যাকটা লাগান আপনার চেহারায় কালো ভাবটা দূর হয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন, ডালটা রোজ তাজা তাজা পিষতে হবে আর কাঁচা দুধ ব্যবহার করবেন।

মুখে এবং পিঠের দাগ দূর করতে

যদি মুখে বা পিঠে দাগ হয়, তাহলে মসুরের ডালের সাথে পোলাও চাল মিশিয়ে পেস্ট করুন। এর সাথে চন্দন পাউডার, মুলতানি মাটি, কমলা লেবুর শুকনো গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ৪ চামচ শশার রসও দিন। মুখে এবং শরীরের নানা স্থানে ঐ পেস্টটা লাগান। শুকিয়ে যাওয়ার পরে ধুয়ে ফেলুন।

পায়ের পাতা পরিষ্কারে মসুর ডাল

পায়ের পাতা বা আঙুলের কালচে, হাঁটু, পায়ের গোড়ালির ময়লা ও রুক্ষভাব দূর করতে প্রাচীনকাল থেকে মসুর ডাল বাটা, হলুদ বাটা, লেবুর রস বা লেবুর খোসার ব্যবহার হয়ে আসছে। মসুর ডাল বাটা, হলুদ বাটা, লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে পায়ের পাতায় লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।

গোপন অঙ্গের দাগ দূর করতে

গোপন অঙ্গের যেমন- বোগল, রানের দুই পাশের, কোমরের কাল দাগ দূর করতে মসুরের ডালের সাথে কমলা লেবুর শুকনো গুঁড়ো, ৪ চামচ শশার রসও মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

বলিরেখা দূর করতে

বলিরেখা দূর করতে কাঁচা হলুদের সাথে মসুর ডাল বাটা দুধের সর মিশিয়ে মুখে মাখুন ফেস প্যাক হিসাবে। নিয়মিত লাগালে অবশ্যই দারুন উপকার পাবেন।

কনুইর রুক্ষভাব এবং কালো দাগ দূর করতে

দুধে মসুর ডাল ভিজিয়ে রাখুন,পরে পাটাই বেটে নিন। মসুর ডাল বাটা, হলুদ বাটা, পালংশাক বাটা, টমেটোর রস, সূর্যমুখীর তেল একসঙ্গে মিশিয়ে কনুইয়ে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

রোদে পোড়া দাগ দূর করতে

রোদেপোড়া দাগ কমাতে মসুর ডালবাটা, কাঁচা হলুদবাটা ও মধু একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান।

ডার্ক সার্কেল সারাতে

ক্লান্তি, স্ট্রেস, টেনশন, অসুস্থতা সবার আগে ছাপ ফেলে চোখের চারপাশে যা আমরা ডার্ক সার্কেল হিসেবে দেখতে পায়। এর সমাধানে একমুঠো মসুরডাল ভিজিয়ে রাখতে হবে ঘণ্টাখানেক। এরপর মিহি করে বেটে নিয়ে। পাতলা সুতি কাপড়ের ভেতর মসুরডাল বাটা দিয়ে পুঁটুলির মতো তৈরি করে নিয়ে। এই পুঁটুলি চোখের ওপর দিয়ে রাখতে হবে ২০ মিনিট। এটা ডার্ক সার্কেল দূর করতে খুবই উপকার করে।

মেছতা দূর করতে

মেছতা এক ধরনের চর্মরোগ। ত্বকের রঙের সামঞ্জস্য নষ্ট করে ফেলে এই মেছতা। মেছতার বিশ্রী দাগ একবার ত্বকে দেখা দিলে তা বাড়তেই থাকে। মসুরডাল ভিজিয়ে রেখে বেটে নিতে হবে। এর সাথে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে। মিশ্রণটি মেছতার ওপর লাগিয়ে রাখতে হবে আধা ঘণ্টা ধরে। এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের দাগ দূর হবে।

ক্ষতের দাগ সারাতে

ব্রণ, বসন্ত, ফোঁড়া, ঘা বা যেকোনো ধরনের ক্ষতের দাগ দূর করতে সাহায্য করে মসুরডাল। আক্রান্ত স্থান ভালো করে শুকাবার আগেই তা ব্যবহার করলে ভালো ফল দেয়। মসুরডাল বাটা ও কচি ডাবের পানি একসাথে মিশিয়ে দাগের ওপর পুরু প্রলেপ দিতে হবে। শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। এরপর ঘষে ঘষে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত ব্যবহারে যেকোনো ধরনের ক্ষতের দাগ দূর হয়ে যাবে।

মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করতে

খুশকি, ময়লা, ফাঙ্গাসের আক্রমণ ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে মাথার ত্বক চুলকাতে থাকে। মসুরডাল বেটে চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে। আধা ঘণ্টা রেখে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। চুল ঝলমলে করে তুলতে চাইলে মাথার ত্বকসহ পুরো চুলেই মসুরডাল বেটে লাগাতে হবে। আধা ঘণ্টা রেখে চুল ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। ফলাফল দেখে চমকে যাবেন।

ত্বক ফেটে যাওয়া রোধ করতে

আবহাওয়া বা চর্মরোগের কারণে ত্বক ফেটে গেলে তা সারাতেও মসুরডালের জুড়ি নেই। মসুরডাল মিহি করে বেটে নিয়ে ত্বকে পুরু করে প্রলেপ লাগিয়ে রেখে। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে। পায়ের গোড়ালি ফাটা সারাতেও একইভাবে মসুরডাল ব্যবহার করতে পারেন।

 

মসুরের ডালের স্বাস্থ্য উপকারিতা

১। কলেস্টেরল কমায়

মসুর ডালে উচ্চ মাত্রার এটা দ্রবণীয় ফাইবার থকে যা রক্তের কলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এটা আপনার শরীরের কলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দিয়ে আপনার ধমনীকে পরিষ্কার রাখে।

২। হজমে সহায়তা করে

মসুর ডালে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আঁশ রয়েছে। ফলে এটি হজমে সহায়তা করে। এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার।

৩। হার্ট ভালো রাখে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মসুর ডালের মতো উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে হার্টের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তাছাড়া মসুর ডাল ফলেট (folate) এবং ম্যাগনেসিয়াম এর একটা বিরাট উৎস, যা হার্টকে আরও বেশি তারুন্য পেতে সহায়তা করে। ম্যাগনেসিয়াম শরীরের সর্বত্র রক্ত, অক্সিজেন এবং পুষ্টি প্রবাহ করতে সাহায্য করে।

৪। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কমায়

মসুর ডালের ফাইবারে আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটি শরীরের চিনির পরিমাণ কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, তাছাড়া এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৫। গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী

ডালে একসঙ্গে আয়রন ও ফলেট দুটিই পাওয়া যায়। গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই দুটি উপাদান বেশ প্রয়োজনীয়। সেই সঙ্গে আয়রন রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৬। ওজন কমাতে

যাঁরা শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে চান তাঁরা ভাতের পরিমাণ কমিয়ে তার বদলে নিয়মিত ডাল খেতে পারেন। এতে ক্ষুধা হ্রাস পাওয়াসহ ভরাপেটের অনুভূতি থাকবে দীর্ঘক্ষণ। এছাড়াও মসুর ডাল খারাপ কোলেস্টেরলকে কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

 

 

প্রিয়া সাঈদ

প্রিয়া সাঈদ একজন স্নাতক এবং হাউজওয়াইফ। বই পড়া এবং জ্ঞান অর্জন করা তার প্রধান শখ এবং সাথে সাথে তার অর্জিত জ্ঞানকে সে শেয়ার করতে পছন্দ করে। আর এজন্য বিডি টিপস অ্যান্ড ট্রিকস এ তার এই বাস্তব এবং জ্ঞানগর্ভমূলক পোস্টসমূহ। তার এই পোস্টসমূহ যদি আপনার উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই লাইক এবং শেয়ার করবেন আশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*