Skip to main content

কিভাবে গ্রীষ্মকালে শিশুর যত্ন নিবেন

মা-বাবার কাছে তার শিশুর গুরুত্ব বলে শেষ করা যায় না। তারা সব সময় চাই সকল কিছুর থেকে তার সন্তানকে ভাল রাখতে। আর এইসব নিয়ে মা একটু বেশিই চিন্তা করে থাকেন।  কিভাবে শিশুটি সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠতে পারে এ নিয়ে মায়ের ভাবনার শেষ থাকে না । শিশুর বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন সমস্যা লেগেই থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এই নিয়ে ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। এর জন্য আপনাকে জেনে রাখতে হবে কিভাবে শিশুটিকে যত্নে রাখা যায়। যাতে শিশুটি বিভিন্ন মৌসুমে, সকল প্রকার রোগ-বালাই থেকে ভাল থাকতে পারে। আর তাই আজ আপনার আদরের শিশুটির গ্রীষ্মে কি কি যত্ন করতে হবে, তাই নিয়ে কিছু টিপস।
শিশুকে গ্রীষ্মের সময় একটু বেশি যত্নের প্রয়োজন, এই সময় বিভিন্ন রোগ-বালাই দেখা দিতে পারে। অন্য ঋতুর তুলনায় এই সময় শিশুরা খেতে চায় না।  আর এই সময় শিশুদের অনেক পানিবাহিত রোগ-বালাই দেখা দিতে পারে । সাথে সাথে মাকে শিশুর জন্য হালকা পোশাক নির্বাচন করতে হবে, যাতে সে গরম থেকে এত কষ্ট না পেতে পারে।  আর অতিগুরুত্বপুর্ন হল খাবার, খাবারের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। নিচে আরও কিছু বিষয়ে যত্ন নেওয়ার সম্পর্কে বলা হল, যা জানলে আপনার শিশুর অনেক সমস্যা এড়ানো সম্ভব ।

 

গ্রীষ্মে শিশুর যত্নের গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • আপনার শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং গ্রীষ্মে সর্বদা শিশুকে আর্বজনা থেকে দূরে রাখতে হবে।
  • যখন আপনি বাইরে যাবেন সাথে অবশ্যই আপনার শিশুর জন্য কিছু বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সাথে নিয়ে যাবেন।
  • আপনার শিশু যখন ঘেমে যাবে একটা শুকনো কাপড় দিয়ে গাঁ মুছে দিবেন, ঘাম শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা লাগতে পারে। সাথে সাথে প্রচুর পানি পান করতে দিবেন।
  • গ্রীষ্মের সময় নরম খাদ্য দিতে হবে, যাতে শিশু সেই খাদ্য খুব সহজে হজম করতে পারে ।
  • শিশুর ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে কোন জীবাণু আক্রান্ত না করতে পারে।
  • গরমে শিশুর প্রস্রাব স্বাভাবিক রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ান।
  • আপনার শিশুকে সবসময় খোলা মেলা পরিবেশে রাখুন। মনে রাখবেন যদি শিশু বদ্ধ পরিবেশে থাকে তবে সে ঘেমে যেতে পারে। ঘামার ফলে শিশুটির কাশি ও জর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

গ্রীষ্মে আপনার শিশুর যে সকল রোগ-বালাই দেখা দিতে পারে

জল বসন্ত

অধিকাংশ শিশুই গ্রীষ্মে জল বসন্ত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে যে সকল শিশুর বয়স ১-৫ বছর হয়, তাদের এই রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশক্কা বেশি থাকে । তবে যদি আপনি জল বসন্তের টিকা দিয়ে দেন, তাহলে এই রোগটি থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাওয়া যায়। যদি শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়, তবে তখন তাকে বিশেষ যত্নের সাথে দেখাশুনা করতে হবে । আপনি শিশুকে একটি নরম তুলা জাতীয় কাপড় পরিধান করিয়ে দিবেন। তাকে তরল এবং নরম খাবার খাওয়াবেন । শিশুকে বেশি পরিমাণ পানি পান করাবেন। আপনার বুকের দুধ খাওয়াতে কোনভাবে কম করবেন না।

স্কিনের ঘামাচি

স্কিনের ঘামাচি শিশুদের একটু বেশিই দেখা যায়। ত্বকে লাল দানার মত ঘামাচি উঠে। আপনি যদি শিশুকে পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখেন, তাহলে গায়ে এত ঘামাচি দেখা দিবে না। আপনি নিয়মিত গোসলের পরে শিশুকে পাউডার লাগিয়ে দিবেন। আপনার শিশুকে সবসময় একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোষাক পরিয়ে দিবেন , তবে কম ঘামাচি উঠবে।  আপনার সন্তানের পোষাক পরিবর্তনের সময়, আপনি নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দিবেন। শিশুকে পাউডার দিলে ঘামাচি হলেও খুব দ্রুত সেরে যাবে। ঘামাচি হলে শিশুদের গা খুব বেশি চিটপিট করে ফলে শিশুর মেজাজ  খিটখিটে হয়ে থাকে । এই জন্য মনে রাখবেন, ভিজা কাপড় দীর্ঘ সময়ের জন্য শিশুর শরীরে যেন না থাকে। আর ঘামাচি বেশি হয়ে গেলে শিশুর গায়ে ঘা হয়ে জেতে পারে। গ্রীষ্মে ঘামাচি হয় এটা স্বাভাবিক, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এর প্রতিকার করা উত্তম। যদি ঘামাচি আরো অনেক হয়, তাহলে ঘা হওয়ার পর্যায়ে গেলে আপনি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।

পেটের সমস্যা

পেটের সমস্যা গ্রীষ্ম মৌসুমে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। এই সময় শিশুদের বাইরের খাবার দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। যখন পেটের সমস্যায় আপনার সন্তান আক্রান্ত হবে তখন তাকে বেশি বেশি স্যালাইন খাওয়াতে থাকবেন। সাথে বিশুদ্ধ পানি ও ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। এই সময় তাকে নরম খাবার খেতে দিবেন। যতদিন পায়খানা স্বাভাবিক না হয়, ততদিন এইভাবে নিয়ম মেনে চলেতে হবে। আপনি অবশই মনে রাখবেন যে, আপনার শিশুটির যেন কোনভাবেই পানিশূন্যতা দেখা না দেয় এবং প্রস্রাবের পরিমাণও স্বাভাবিক থাকে। টয়লেটের সাথে যদি দেখেন রক্ত যাচ্ছে, দ্রুতই  আপনি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিবেন। আরও মনে রাখবেন, আপনার শিশুর বয়স ছয় মাস মধ্যে হলে মায়ের দুধ বন্ধ করবেন না। পানি ও অন্যান্য খাবার একই সাথে খেতে দিবেন।

ঠাণ্ডার সমস্যা

গ্রীষ্মে ঠান্ডার সমস্যা শিশুদের একটি বড় সমস্যা। গ্রীষ্মে এমন শিশু পাওয়া কঠিন যার ঠান্ডা সমস্যা নেই। অত্যধিক গরমে ঘামের জন্য শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যায়। সুতরাং যখন আপনার শিশুটি ঘামবে, সাথে সাথে তার শরীর মুছে দিবেন এবং কাপড় পরিবর্তন করাবেন। শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং সবসময় তার পরিষ্কার কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে। এতে শিশু সুস্থ থাকবে। আর যদি দেখেন অনেক সময় ধরে শিশুটি অসুস্থ আছে, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসারে ঔষধ খাওয়াবেন।

 

প্রিয়া সাঈদ

প্রিয়া সাঈদ একজন স্নাতক এবং হাউজওয়াইফ। বই পড়া এবং জ্ঞান অর্জন করা তার প্রধান শখ এবং সাথে সাথে তার অর্জিত জ্ঞানকে সে শেয়ার করতে পছন্দ করে। আর এজন্য বিডি টিপস অ্যান্ড ট্রিকস এ তার এই বাস্তব এবং জ্ঞানগর্ভমূলক পোস্টসমূহ। তার এই পোস্টসমূহ যদি আপনার উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই লাইক এবং শেয়ার করবেন আশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*