Skip to main content

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রিয় খাবারসমূহ

সর্বশ্রেষ্ঠ মানব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-ছিলেন অসাধারন ব্যাক্তিত্তের অধিকারি।  তিনি তাঁর জীবদ্দশায় যে সকল খাবার আহার করেছেন তন্মধ্যে তাঁর কিছু প্রিয় খাবার ছিল। তিনি যেসব খাবার আহার করতেন বা আহার করতে পছন্দ করতেন তার মধ্যে কিছু খাবারের গুণাবলীসহ উল্লেখ করা হলো। দেড় হাজার বছর পর আজকের বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে নবীজী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যেসব খাবার আহার করতেন তার গুণাগুণ ও উপাদান মানব দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারি।

নবীজী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে –

 

১। খেজুর

খেজুরের গুণাগুণ ও খাদ্যশক্তি অপরিসীম। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীর সতেজ রাখে। এটা থেকে প্রচুর এনার্জি পাওয়া যায়। প্রিয়নবী (সাঃ) বলতেন, যে বাড়িতে খেজুর নেই সে বাড়িতে কোনো খাবার নেই। এমনকি প্রিয়নবী (সাঃ) সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

২। দুধ

দুধের খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ বর্ণনাতীত। দুধ পানে মেরুদন্ড সবল হয়, মস্তিষ্ক সুগঠিত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। আজকের বিজ্ঞানিরাও দুধকে আদর্শ খাবার হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং এর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অস্থিগঠনে সহায়ক বলেছেন।

 

৩। মধু

মধুর নানা পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ রয়েছে। মধুকে খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা বলা হয়। হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে মধু পান করলে ঠান্ডার ক্ষেত্রে উপকারি হয়। খাবারে অরুচি, পাকস্থলীর সমস্যাসহ নানা কাজে মধু উপকারী।

 

৪। বার্লি (জাউ)

এটা জ্বরের জন্য এবং পেটের পীড়ায় উপকারী।

 

৫। আঙ্গুর

প্রিয়নবী (সাঃ) আঙ্গুর খেতে অত্যন্ত ভালো বাসতেন। আঙ্গুর অত্যন্ত উপকারী ফল। এই খাবারের উচ্চ খাদ্য শক্তির কারণে এটা থেকে আমরা তাৎক্ষণিক এনার্জি পাই এবং এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আঙ্গুর কিডনির জন্য উপকারী এবং বাওয়েল মুভমেন্টে সাহায্য করে। যাদের আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে তারা খেতে পারেন।

 

৬। তরমুজ

সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। যেসব গর্ভবর্তী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।

 

৭। ডালিম-বেদানা

বেদানার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণের পাশাপাশি এটার ধর্মীয় একটি দিক আছে। প্রিয়নবী (সাঃ) বলেছেন, এটা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।

 

৮। ডুমুর

ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজগুণসম্পন্ন যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী খাবার।

 

৯। জলপাই তেল বা  অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ অনেক। গবেষণায় দেখা গেছে অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী এবং বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে। এছাড়া অলিভ অয়েল পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।

 

১০। খাবার পানি

পানির অপর নাম জীবন। পানির ভেষজগুণ অপরিসীম। পানি পৃথিবীর সেরা তরল খাবার। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন। দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:)পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিৎসা  বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন।

 

১১। ভিনেগার

ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। নবীজী (স:) অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অথচ আজকের এই মডার্ন ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্যের যুগে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্ট বিশেষ করে এলিট ইটালিয়ান রেস্টুরেন্টে অভিল অয়েল ও ভিনেগার একসাথে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

 

১২। মাশরুম

আজ বিশ্বজুড়ে মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। অথচ দেড় হাজার বছর আগে নবীজী (স:) মাশরুম চোখের জন্য ভালো এবং এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক এবং মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করে এবং শরীর প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে।

 

প্রিয়া সাঈদ

প্রিয়া সাঈদ একজন স্নাতক এবং হাউজওয়াইফ। বই পড়া এবং জ্ঞান অর্জন করা তার প্রধান শখ এবং সাথে সাথে তার অর্জিত জ্ঞানকে সে শেয়ার করতে পছন্দ করে। আর এজন্য বিডি টিপস অ্যান্ড ট্রিকস এ তার এই বাস্তব এবং জ্ঞানগর্ভমূলক পোস্টসমূহ। তার এই পোস্টসমূহ যদি আপনার উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই লাইক এবং শেয়ার করবেন আশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*