Skip to main content

চুল ও ত্বকের যত্নে কাঠ বাদামের উপকারিতা

কাঠবাদাম অনেক উপকারি একটি খাদ্য বীজ। শুধু খাদ্য বীজ হিসেবে নয়, রূপচর্চায় কাঠবাদাম যে কতটা গুনাগুনে ভরপুর উপাদান তা বলে শেষ করা যাবে না। কারন কাঠবাদাম এমন একটি ফল যার মধ্যে রয়েছে ঔষধী এবং ত্বক যত্নের জন্য ভেষজ ময়েশ্চারাইজারের ভরপুর গুনাগুন। কাঠবাদামে এতো গুনাগুন বিদ্যমান রয়েছে যার ফলে চুল ও ত্বকের নানান সমস্যা দূর হতে পারে। কাঠবাদামের তেল ত্বক ও চুল দুই ক্ষেত্রেই অনেক উপকারি। অনেকে বাইরের কসমেটিক ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আমাদের ত্বক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তাই যদি বাইরের যে কোন কসমেটিক ব্যবহার করি তাতে মুখে অনেক ক্ষতিকারক দিক আসতে পারে। তাই আমাদের উচিত প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা। যদিও রূপচর্চায় কাঠবাদামের গুরুত্ব সম্পর্কে কমবেশি আমরা সবাই জানি, কিন্তু এর এমনকিছু গুনাগুন আছে যা হয়ত আমরা জানি না। কাঠ বাদামে রযেছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন এবং মিনারেলে। তাছাড়া কাঠ বাদামে রয়েছে ডায়েট ফাইবার যেটা হার্ট কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। চলুন তাহলে জেনে নেই ত্বক ও চুলের জন্য কাঠ বাদাম কতটা উপকারি–

ত্বকের যত্নে কাঠবাদামের ব্যবহার

১। কাঠবাদামে  প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান আছে ময়েশ্চারাইজার, সাথে অনেক ভারীও। আর এই ভারী ময়েশ্চারাইজার মুখের ব্ল্যাকহেডস, ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে তৈলাক্ত ত্বক এ যারা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারে না, তাদের জন্য অনেক উপকারী।

২। কাঠবাদামে ভিটামিন-ই আছে। তাই এই ভিটামিন-ই ত্বকের উজ্জলতা বাড়াতে অনেক সাহায্য করে থাকে। ত্বকে এটি নিয়মিত তেল দ্বারা ম্যাসাজ করলে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যার ফলে ত্বক সুস্থ থাকে।

৩। কাঠবাদামে আরও ভিটামিন-ডি বিদ্যমান। ছোট শিশুদের এই তেল দিয়ে পুরো দেহ ম্যাসাজ করালে দেহের হাড় মজবুত ও সবল হয়।

৪। কাঠ বাদামে প্রচুর ভিটামিন-ই থাকাই। এটি ত্বক কে সূর্যের হাত থেকে বাঁচায় এবং ত্বক কে ড্যামেজ এর হাত থেকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে। যাদের ত্বকে সান বার্ন আছে, তারা এটি থেকে পরিত্রাণ পেতে কাঠ বাদাম তেল ব্যবহার করতে পারেন। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না ভিটামিন-ই ত্বকের জন্য কতটা উপকারী।

৫। কাঠ বাদামের তেল খুব তাড়াতাড়ি শরীর শুষে নিতে পারে। তাই যেকোনো সময় কাঠবাদামের তেল শরীরে লোশনের পরিবর্তে দেওয়া যাবে।

৬। কাঠ বাদাম তেল হল প্রাকৃতিক ময়েশচারাইজার। এতে কোন কেমিক্যাল অথবা প্রিজেরভেটিভ নেই। তাই এই তেল কে সিরাম হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখ পরিষ্কার করে চোখ সহ ,পুরো মুখ ঘড়ির কাটার উল্টো দিকে ম্যাসাজ করতে হবে। ফলাফল হিসেবে নমনীয় এবং তুলতুলে ত্বক পাওয়া যাবে। তাছাড়া এটি মুখের লোমগ্রন্থি বন্ধ করে না। তাই ব্রণ হবারও ভয় থাকে না।

৭। কাঠ বাদামের তেলে আছে ফ্যাটি অ্যাসিড। তাই এটি মুখের যেকোনো চর্ম সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

৮। কাঠ বাদামের তেল চোখের নীচে কালো দাগ দূর করতে অনেক উপকারি। তাছাড়া কাঠ বাদাম বেটে, ওই পেস্ট রাতে ঘুমানোর সময় চোখে দিয়ে ঘুমালে, চোখের নীচের কালো দাগ চলে যায়। চোখের বলিরেখা, চোখ ফুলা ভাবও কমে যায়। কাঠ বাদাম চোখের নীচের দাগ দূর করতে যেকোনো ভালো আই ক্রিম এর থেকে ভালো।

৯। কাঠ বাদাম ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন কাঠ বাদামের তেল দিয়ে ত্বক ম্যাসাজ করলে, ত্বকের বলি রেখা চলে যাবে। তাছাড়া মধু, লেবু, কাঠ বাদাম তেল মিশিয়ে মুখে মাস্ক হিসাবে ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে উঠবে দীপ্তিময় এবং মুখের বয়সের ছাপ কমে যাবে।

১০। কাঠ বাদাম স্ক্রাব হিসেবেও কাজ করে। কাঠ বাদাম দানা দানা রেখে গুড়ি করে, তার সাথে মধু, এবং টক দই দিয়ে মুখ আলতো আলতো করে ম্যাসাজ করলে, স্ক্রাব এর কাজ হয়ে যাবে।

১১। ভারী মেকাপ তুলতে কাঠ বাদাম তেল সামান্য একটু  নিয়ে পুরো মেকাপ পরিষ্কার করা যায়।

১২।  কুসুম গরম পানিতে কাঠবাদাম ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর খোসা তুলে কাঠবাদাম পিষে নিয়ে। এর সাথে মধু ও অল্প একটু গরম পানি মিশাতে হবে। মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে ত্বকে লাগাতে হবে। ত্বক উজ্জ্বল হবে।

 

চুলের যত্নে কাঠ বাদাম ব্যবহার

১। কাঠ বাদামে রয়েছে চুল বান্ধব মনো ফ্যাটি অ্যাসিড, তার সাথে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১, বি২ এবং বি৬। যার কারনে কাঠ বাদাম চুল কে পুষ্টি দেয়, চুল কে শক্ত করে। ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত কাঠ বাদাম চুল কে সফট, সোজা এবং সিল্কি রাখে।

২। কাঠ বাদামে রয়েছে উচ্চ পরিমাণের ফসফরাস। যেটি ভালো চুল গজাতে সাহায্য করে। তাছাড়া চুল পড়ে প্রধানত ফসফরাস এর অভাবে। নিয়মিত কাঠ বাদাম খেলে ফসফরাসের অভাব পূরণ হয়। শরীর এর ফাংশন থেকে শুরু করে চুলও প্রোটিন পায় কাঠ বাদাম থেকে।

৩। যারা চুল এর খুশকি নিয়ে চিন্তিত, তারা ১:১ অনুপাতে কাঠ বাদাম তেল + নিম তেল মিশিয়ে চুলে লাগাতে থাকেন।  মেখে সারারাত রেখে দিয়ে। সকালে উঠে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে। আশা করি খুশকির সমস্যা থাকবে না।

৪। কাঠ বাদাম তেল এর সাথে রস্মারি এবং ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে মাথার তালু মাসাজ করলে চুল পড়া কমবে।

৫। কাঠ বাদাম তেল, মেথি গুঁড়া, ক্যাস্টর অয়েল, নারিকেল তেল মিশিয়ে চুলে লাগালে চুল এর আগা শক্ত হবে, চুল পড়া কমবে, চুল তাড়াতাড়ি বাড়বে।

কাঠ বাদাম মোটামুটি সব জায়গায় পাওয়া যায়। ভালো মানের কাঠ বাদাম পাবেন মোস্তফা মার্ট, ইউনি মার্ট, আগরা ইত্যাদি। দেশি কাঠ বাদাম দাম পড়বে ৫০-১৫০ আর বিদেশি গুলো ৫০০-৭৫০। বিদেশি গুলো কেনা ভালো এবং এক প্যাকেটে ১ কেজির মত থাকে।

কাঠ বাদাম নিজে ভাঙ্গিয়ে তেল করে নিলে অনেক ভালো হয়। কোন কেমিক্যাল থাকে না। তাছাড়া অনলাইন পেজ izdihar ১০০% খাটি কাঠ বাদাম তেল বিক্তি করে। দাম ১০০ গ্রাম ৪০০ টাকা। এছারা রয়েছে ওয়েলস এর কাঠ বাদাম তেল, দাম ১৪০-১৬০। চুলের জন্য ডাবার কাঠ বাদাম তেল অনেক ভালো। দাম ১৫০-২৫০।

আশা করি পোস্টটি ভালো লাগবে। আর যদি ভাল লেগে থাকে তাহলে পেইজ লাইক করতে ভুলবেন না। ভালো থাকুন সবাই।

 

প্রিয়া সাঈদ

প্রিয়া সাঈদ একজন স্নাতক এবং হাউজওয়াইফ। বই পড়া এবং জ্ঞান অর্জন করা তার প্রধান শখ এবং সাথে সাথে তার অর্জিত জ্ঞানকে সে শেয়ার করতে পছন্দ করে। আর এজন্য বিডি টিপস অ্যান্ড ট্রিকস এ তার এই বাস্তব এবং জ্ঞানগর্ভমূলক পোস্টসমূহ। তার এই পোস্টসমূহ যদি আপনার উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই লাইক এবং শেয়ার করবেন আশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*