Skip to main content

চুল ঘন ও কালো করার ঘরোয়া টিপস

সুন্দর ঘন কালো চুল কে না পছন্দ করে। আর আদিকাল থেকে মেয়েদের সৌন্দর্যের বর্ণনায় চুলের উপমা দেয়া হয়ে থাকে। ঘন কালো লম্বা চুলের উপমা ছাড়া নারীর সৌন্দর্যের বর্ণনা পরিপূর্ণতা হয় না। মাঝে বেশ কিছুদিন ছোট চুলের ফ্যাশন আসলেও। আবার কিন্তু নতুন করে ফিরে এসেছে লম্বা চুলের ফ্যাশন। কিন্তু সমস্যা হলো আবহাওয়া এবং আমাদের যত্নআত্তির ভুলের কারণে চুলের সৌন্দর্য ধীরে ধীরে কমে আসছে। সব চেয়ে বড় সমস্যা হল এখন চুল ঝরে পড়া। যার ফলে মানুষ টাকের সমস্যায় পড়ছে। আবার পাশাপাশি চুল বাড়ার প্রক্রিয়াটিও কমে গিয়েছে। অনেকের তো সহজে চুল লম্বাই হতে চায় না। এই সমস্যা সমাধান করবে ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপায়। খুব সহজে আপনিও এই উপায়গুলো ব্যবহার করে দেখবেন চুলের বেড়ে ওঠা নিশ্চিত হচ্ছে। সাথে নতুন চুল গজিয়ে চুল ঘন, কালো ও লম্বা হচ্ছে দ্রুতই। চলুন দেখে নেই সেই সহজ ঘরোয়া টিপসগুলো কি কি।

 

চুল খুব দ্রুত ঘন ও কালো করার ঘরোয়া টিপস

 

পেঁয়াজের ব্যবহার

সেই প্রাচীন কাল থেকে চুল বৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের রসে রয়েছে সালফার যা চুলের কোলাজেন টিস্যুর বৃদ্ধি উন্নত করে এবং চুল বাড়তে সাহায্য করে দ্রুত। লাল পেঁয়াজ ছোট ছোট করে কেটে নিয়ে একটি পাতলা পরিষ্কার কাপড়ে রেখে চিপে রস বের করে নিতে হবে। এই পেঁয়াজের রস পুরো মাথার ত্বকে ভালো করে লাগিয়ে রেখে ১৫ মিনিট পর মৃদু কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ২ দিন এই পেঁয়াজের রস ব্যবহার করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

 

ডিমের হেয়ার মাস্ক

ডিমের উচ্চ মাত্রার প্রোটিন চুলের ফলিকলে পুষ্টি প্রদান করে এবং চুল দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। এই মাস্কের সালফার, জিংক, আয়রন, সেলেনিয়াম, ফসফরাস এবং আয়োডিন চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে। ডিমের হেয়ার মাস্ক করতে হলে ১ টি ডিমের সাদা অংশ নিতে হবে। এতে ১ টেবিল চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে। চুলে ভালো করে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখতে হবে। এরপর শ্যাম্পু করে চুল ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন।

 

আলুর রসের ব্যবহার

চুলের বৃদ্ধির কাজে আলুর রসের ব্যবহার অনেকেই জানেন না। কিন্তু আলুর ভিটামিন এ, বই এবং সি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে বেশ সহায়ক। আলু একেবারে ঝুড়ি করে নিয়ে খুব দ্রুত এর রস বের করে নিন। আলুর রস সরাসরি মাথার ত্বকে ভালো করে ঘষে লাগাতে হবে। তারপর ১৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ২/৩ বার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন।

 

মেহেদীর হেয়ার মাস্ক

মেহেদী চুলের জন্য অনেক বেশি ভালো একটি উপাদান। চুল ঘন কালো ও লম্বা করতে মেহেদীপাতার তুলনা নেই। মেহেদীর হেয়ার মাস্ক করতে হলে ১ কাপ পরিমান শুকনো গুড়ো মেহেদী ও অর্ধেক কাপ টকদই দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মেহেদীর মিশ্রণ চুলের আগা থেকে গোঁড়া এবং মাথার ত্বকে ভালো করে লাগাতে হবে। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত চুলে লাগিয়ে রেখে। এরপর শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মাস্কটি সপ্তাহে ১ দিন ব্যবহার করলে চুলের ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

 

দ্রুত চুল ঘন কালো লম্বা করতে যা যা করবেন

১। চুলের ম্যাসেজটা অনেক বেশি দরকারী। প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে চুল ম্যাসেজ করলে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চাচালন স্বাভাবিক হয়। এর ফলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়। তাই চুলের উপকারে ম্যাসাজ করা অনেক প্রয়োজন।

২। প্রতিদিন গোসলের সময় শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না, আবার চুল পরিষ্কার রাখাও জরুরী, কিন্তু তাই বলে প্রতিদিন গোসলের সময় চুলে শ্যাম্পুর ব্যবহার চুলের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। অতিরিক্ত শ্যাম্পুর ব্যবহারে চুলের প্রাকৃতিক তেল চলে যায়, যার ফলে চুল সহজে বাড়তে চায় না। তাই অন্তত ১ দিন পরপর শ্যাম্পু করা অবশ্যই দরকার। এতে ময়লা জমবে না আবার চুলের গোড়া নরম হবে না।

৩। কিছু উপকরণের তৈরি হেয়ার মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন, ডিম, আলু, পেঁয়াজ, কলা, মেহেদি পাতা, মেথি, আমলকী ইত্যাদির তৈরি হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো চুল মজবুত করে এবং চুল ঘন ও লম্বা করতে সাহায্য করে।

৪। তেলের ব্যবহার চুলের ঘনত্ব দ্রুত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অসাধারন ভূমিকা রাখে। চুলের বৃদ্ধিতে তেল যতোটা কাজ করে অন্য কোনো কেমিক্যাল সমৃদ্ধ উপাদান তা করতে পারে না। সপ্তাহে অন্তত কিছু প্রয়োজনীয় তেল গরম করে ৪ দিন ভালোভাবে ম্যাসেজ করতে হবে। যেমন সরিষার তেল, ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল, নারিকেল তেল, জবা ফুলের তেল ইত্যাদি। এছাড়া মধু ও লেবু চুলের জন্য বেশ পুষ্টিকর। এগুলোও তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে চুলের দ্রুত বৃদ্ধি হবে।

৫। বাইরের কসমেটিকসের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদানের ব্যবহার করতে পারেন। কেননা বাইরের কসমেটিকসে বিভিন্ন ধরনের কেমিকেল থাকে যা চুলের জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদান চুলের জন্য উপকারি।

৬। চুল শুকানোর জন্য অনেকেই গোসল শেষে ভেজা চুল তোয়ালেতেই পেঁচিয়ে রাখেন। যা চুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে চুলের গোঁড়া একেবারেই নরম হয়ে যায়। ফলে চুল পড়া বাড়ে এবং চুল বৃদ্ধি একেবারেই কমে যায়। তাই ভেজা চুল তোয়ালে একদম পেঁচিয়ে রাখবেন না। গোসল সেরে ফ্যানের বাতাসে চুল ছড়িয়ে শুকিয়ে নিবেন। এবং অবশ্যই চুল ঝাড়ার কাজটি করবেন না।

৭। শুধু যে বাহ্যিকভাবে চুলের বৃদ্ধি হয় তা নয়। ভেতরের পুষ্টিগুণও প্রয়োজন। আপনি যদি খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর এবং চুল বৃদ্ধিতে সহায়ক খাবার রাখেন তাহলে চুলের বৃদ্ধি দ্রুতই হবে। দ্রুত চুল বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ই, এ, ফলিক অ্যাসিড, ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। তাই খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে।

৮। চুল অনেক জোরে ঘষে আঁচড়ানো, চুলে টান লাগা, চুলের জট এক টানে ছাড়িয়ে ফেলার মতো ভুল করা যাবে না। এতে করে চুলের গোঁড়া নরম হয়, চুল পড়া বাড়ে এবং চুল ভেঙেও যায়। এই ক্ষেত্রে চুল আঁচড়ানোর সময় মনোযোগ দিতে হবে। এবং চুল খুব ভালো করে সময় নিয়ে আঁচড়াতে হবে।

৯। অনেকেই ভাবেন চুল লম্বা করতে বা চুলের ঘনত্ব ঠিক রাখতে গেলে চুল একেবারেই কাটা ঠিক নয়। কিন্তু ৬ থেকে ১০ সপ্তাহ পরপর অন্তত ১ ইঞ্চি চুল কাটা চুলের জন্য খুবই দরকার। এতে চুলের আগা ফাটা দূর হবে যা চুলকে বাড়তে সাহায্য করবে। তাই কেঁচিকে হ্যাঁ বলতে হবে।

 

 

প্রিয়া সাঈদ

প্রিয়া সাঈদ একজন স্নাতক এবং হাউজওয়াইফ। বই পড়া এবং জ্ঞান অর্জন করা তার প্রধান শখ এবং সাথে সাথে তার অর্জিত জ্ঞানকে সে শেয়ার করতে পছন্দ করে। আর এজন্য বিডি টিপস অ্যান্ড ট্রিকস এ তার এই বাস্তব এবং জ্ঞানগর্ভমূলক পোস্টসমূহ। তার এই পোস্টসমূহ যদি আপনার উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই লাইক এবং শেয়ার করবেন আশা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*